← সব পোস্ট

লাভবার্ড — খাবার, আয়ু, যত্ন ও অসুখ

· ডা. সাদমান সাকিব

🐦 নামে লাভ, স্বভাবে ছোট তোতা যার ঠোঁট শক্ত। বাংলাদেশের শপে বেশিরভাগ পিচ-ফেসড লাভবার্ড — মুখ গোলাপি, কোমর হলুদ। ফিশার ও মাস্কড জাতও মেলে; তাদের চোখের চারপাশে সাদা বলয় থাকে। সুন্দর দেখতে বলে বাচ্চার হাতে দিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।

বাজি: বাজরিগার। ককাটিল: ককাটিল। কোন পাখি আনবেন: পোষা পাখির গাইড।

🔹 কোন জাত, কাকে চেনা যায়

পিচ-ফেসডের মুখ গোলাপি, চোখে সাদা বলয় নেই। ফিশারের মুখ কমলা, মাস্কডের মাথা কালো — দুজনেরই চোখে সাদা বলয়। দুই জাত এক খাঁচায় রাখবেন না। মারামারি হয়, বাচ্চা মিশ্র জাতের হয়।

পুরুষ-মেয়ে রঙ দেখে চেনা যায় না। “লাল ঠোঁট পুরুষ” — এই কথা বিশ্বাস করবেন না।

আয়ু ১০–১৫ বছর, ভালো যত্নে আরও। কামড় বাজির মতো আলতো নয়। চামড়া কাটে।

🔹 একটা না জোড়া

একটি লাভবার্ড আপনাকে সঙ্গ ভাবে। রোজ সময় চাই। জোড়া দিলে তারা একে অপরের হয়ে যায়, আপনাকে কম পাত্তা দেয় — এবং জোড়াও কামড়ায়।

বাজরিগার, ককাটিল বা ফিঞ্চের সাথে রাখবেন না। লাভবার্ড ছোট পাখিকে কামড়ে মেরে ফেলতে পারে। আলাদা ঘর মানে আলাদা খাঁচাই যথেষ্ট নয়, যদি একই সময়ে বাইরে উড়ে।

বাচ্চাদের একা ছোঁয়ার পাখি নয়। বড়রা দেখবে।

🔹 কী খায়

শুধু সূর্যমুখী দিলে মোটা হয় ও ভিটামিন কমে। মাঝারি তোতার খাবার দিন।

  • পেলেট মূল খাবার, সম্ভব হলে
  • সবজি: গাজর, ব্রকলি, শিম, শসা, সিদ্ধ কুমড়ো
  • ফল অল্প: আপেল বিচি ছাড়া, পেয়ারা, পেঁপে
  • সূর্যমুখী ও খৈল ট্রিট, বাটি ভর্তি নয়
  • কাটলবোন। বালি-গ্রিট নয়
  • পানি প্রতিদিন। দুধ, ভাত, বিস্কুট নয়

দেবেন না: অ্যাভোকাডো, চকলেট, চা-কফি, পেঁয়াজ, রসুন, নোনতা খাবার, ফলের আঁটি।

কাগজ ছিঁড়ে বাসা বানানো তাদের স্বভাব। ছিঁড়ার কাগজ দিন (কালি ছাড়া)। বাসা বাক্স রাখলে ডিম বাড়ে। বাচ্চা না চাইলে বাক্স, তুলো, নারকেল ছোবড়া সরিয়ে দিন।

🔹 যত্ন

  • খাঁচা চওড়া। শক্ত ঠোঁট কাঠ ও প্লাস্টিক ভাঙে। সস্তা রঙিন খাঁচা কামড়ালে দস্তা-সীসা বিষ হতে পারে
  • ডাল বিভিন্ন মোটাই
  • প্রতিদিন কিছুক্ষণ বন্ধ ঘরে উড়তে দিন: পাখা বন্ধ, জানালা বন্ধ, অন্য পোষা প্রাণী আলাদা
  • রাতে ১০–১২ ঘণ্টা অন্ধকার। বেশি আলোতে ডিম বাড়ে
  • পিঠ ও লেজের নিচে আদর করবেন না। মাথা-ঘাড় যথেষ্ট
  • গরম নন-স্টিক প্যান, কয়েল, আগরবাতি, স্প্রে থেকে দূরে
  • গরমে স্প্রে চলবে। সরাসরি রোদ সারাদিন নয়

নতুন লাভবার্ড অন্য পাখি থেকে অন্তত ৩০ দিন আলাদা রাখুন। সুস্থ দেখালেও সঙ্গে সঙ্গে বাজি বা ককাটিলের ঘরে মেশাবেন না।

🔹 অসুখ

অসুখকী দেখবেন
ডিম আটকানোমেয়ে খাঁচার তলায়, পা ফাঁক, লেজ নাড়ে, ডিম আসে না। খুব সাধারণ ও জরুরি
বারবার ডিমদুর্বল, পাতলা খোসা। বাসা বাক্স ও পিঠের আদর বন্ধ করুন, ভেট দেখান
পালক ও ঠোঁটের ভাইরাস (PBFD)পালক অস্বাভাবিক, ঠোঁট ভেঙে গলে, বারবার অসুখ। ছোঁয়াচে। ঘরোয়া ওষুধে সারে না
কামড়ের ক্ষতআপনার হাত বা অন্য পাখি। ক্ষত নিজে সেলাই করবেন না
শ্বাসকষ্টঠোঁট হাঁ, নাক-চোখের স্রাব, হলদে-সবুজ বিষ্ঠা। মানুষেও ছড়াতে পারে

ঠোঁটে তেল, কেরোসিন, মানুষের অ্যান্টিবায়োটিক দেবেন না। হাত ধুয়ে নিন। বাড়িতে জ্বর-কাশি হলে ডাক্তারকে পাখির কথা বলুন।

🚨 এখনই দেখান — যদি

  • ডিম আটকে থাকা, বা একদিনও না খাওয়া
  • খাঁচার তলায় ফুলে বসা
  • ঠোঁট হাঁ করে শ্বাস
  • পালক একসাথে উঠে যাওয়া, ঠোঁট ভেঙে যাওয়া
  • অন্য পাখিকে কামড়ে ফেলা, রক্ত
  • খিঁচুনি, বিষ্ঠায় রক্ত

পাখিকে ভিড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখবেন না। আসার আগে মেসেজ দিন।

🏥 ডা. সাকিব পেট কেয়ারে

দৈনন্দিন কাজ বিড়ালকে ঘিরে। পাখিও দেখি — প্রজাতি ও লক্ষণ আগে জানালে বলতে পারি সেদিন দেখা সম্ভব কি না।

ডা. সাদমান সাকিব (DVM, বিভিসি রেজি. নং ৮৭০৪) — সানারপার, সিদ্ধিরগঞ্জ।

  • 📱 কল করুন: ০১৩০২৯৫৯৯৮৫
  • 📍 ঠিকানা: নিমাই কাসারি বাজার, সানারপার, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা
  • 🕐 সময়: সপ্তাহের সব দিন, সকাল ৯টা – রাত ৯টা

👉 হোয়াটসঅ্যাপে লাভবার্ডের কথা লিখুন

অথবা সরাসরি ক্লিনিকে চলে আসুন — Google Maps-এ দিকনির্দেশনা।

লাভবার্ড উপহারের পাখি নয়। কামড়, আলাদা খাঁচা, আর ডিম আটকানো — এই তিনটা মেনে তবেই সে ঘরে মানায়।