ঘরে বিড়ালের কান পরিষ্কার — কখন নিরাপদ, কখন থামবেন
🐱 বিড়াল কি কান নাড়াচ্ছে, নাকি কানের ভিতরে বাদামি ময়লা দেখা যাচ্ছে?
সুস্থ কানে একটু ময়লা থাকা স্বাভাবিক। সেটা আলতো করে মুছে ফেলা যায়। কিন্তু কান লাল, ফোলা, দুর্গন্ধ বা পুঁজ হলে ঘরে পরিষ্কার করবেন না। সংক্রমণ বা আঘাত থাকলে ময়লা ভিতরে ঢুকে সমস্যা বাড়ে।
হালকা বাদামি ময়লা, দুর্গন্ধ নেই, বিড়াল কষ্ট পাচ্ছে না — শুধু এই অবস্থায় ঘরে পরিষ্কার নিরাপদ। লক্ষ্য বাইরের কানের আলগা ময়লা সরানো। নালির গভীরে ঘষা নয়।
লাগবে বিড়ালের জন্য বানানো কানের ক্লিনার, তুলা বা গজ, আর একটা শান্ত বিড়াল। কটন বাড লাগবে না। বাড ময়লা আরও ভিতরে ঠেলে দেয়, কানের পর্দা ফাটতে পারে।
শুরুর আগে থামার নিয়ম জেনে রাখুন। বিড়াল চেঁচিয়ে উঠলে, জোরে ছাড়িয়ে গেলে, বা রক্ত দেখলে সাথে সাথে থামুন এবং ভেটকে ফোন করুন। সুস্থ কান পরিষ্কারে এক কানে এক মিনিটের কম সময় লাগে। ব্যথা হওয়ার কথা নয়।
লক্ষণ গুলিয়ে গেলে লক্ষণ যাচাই।
🚨 এটা কি জরুরি?
সন্দেহ হলে আগে ফোন করুন। কান পরিষ্কার করে “দেখি কমে কিনা” করবেন না।
| অবস্থা | কী দেখবেন | কী করবেন |
|---|---|---|
| এখনই ভেট | কয়েক ঘণ্টা ধরে মাথা এক পাশে হেলানো, টাল খাওয়া, ঘুরে ঘুরে হাঁটা, চোখ দ্রুত কাঁপা, বমি, দাঁড়াতে বা সোজা হাঁটতে না পারা | মাঝের বা ভিতরের কানের সমস্যা হতে পারে। কান পরিষ্কার করবেন না। ক্লিনিক খোলা থাকলে সাথে সাথে আসুন, নাহলে খোলা জরুরি ভেট। জরুরি গাইড |
| আজই অ্যাপয়েন্টমেন্ট | কান লাল, গরম, ফোলা বা ছুঁলে ব্যথা; তীব্র দুর্গন্ধ; হলুদ বা সবুজ পুঁজ; একনাগাড়ে মাথা নাড়ানো; এত আঁচড়ানো যে চামড়া ছড়ে গেছে | কান পরিষ্কার করবেন না। ভেট অটোস্কোপ (আলোযুক্ত যন্ত্র) দিয়ে পর্দা ও পুরো নালি দেখেন। এখন পরিষ্কার করলে রোগ ঢাকা পড়ে, ব্যথা বাড়ে |
| ৪৮ ঘণ্টা ঘরে দেখুন | অল্প বাদামি বা কালচে ময়লা, শুধু বাইরের কানে; গন্ধ নেই, লাল নেই, ব্যথা নেই; আঁচড়ায় না, মাথা নাড়ায় না | নিচের নিয়মে পরিষ্কার করতে পারেন। কয়েক দিনে ময়লা ফিরে আসলে, বা লালচে ভাব ও গন্ধ হলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন |
🔹 সম্ভবত কী হচ্ছে
বেশিরভাগ বিড়ালে অল্প কানের ময়লা স্বাভাবিক। নালি ময়লা বানায়, যেন ধুলো আটকে। সেটা ধীরে ধীরে বাইরে আসে। কানের ভিতরের পাতায় হালকা বাদামি আস্তরণ দেখতে পারেন। এটা সংক্রমণ নয়। মুছে ফেললেই হয়।
গাঢ় বাদামি বা কালো গুঁড়ো ময়লা, বিশেষ করে দুই কানে, প্রায়ই কানের মাইট। ছোট পরজীবী নালিতে থাকে। চুলকানি তীব্র হয় — কান আঁচড়ানো, মাথা নাড়ানো। অন্য পোষা প্রাণীতে সহজে ছড়ায়। জরুরি নয়, কিন্তু ভেটের পরীক্ষা ও প্রেসক্রিপশনের ওষুধ লাগে। ঘরের তেল বা দোকানের ড্রপ দিয়ে মাইট সারানোর চেষ্টা করবেন না। ভুল জিনিসে কান নষ্ট হয়। চুলকানির অন্য কারণ: চুলকানি, ফ্লি ও দাদ।
🔹 আর কী হতে পারে
কানের সংক্রমণ বিড়ালে সাধারণ। ব্যাকটেরিয়া বা ইস্ট (এক ধরনের ছত্রাক)।
- ইস্ট — গাঢ়, আঠালো ময়লা। গন্ধ মিষ্টি বা ভেজা কাপড়ের মতো
- ব্যাকটেরিয়া — হলুদ বা সবুজ পুঁজ, দুর্গন্ধ
দুটোতেই কান লাল ও ব্যথা হয়। ভেট ময়লার নমুনা মাইক্রোস্কোপে দেখে ওষুধ ঠিক করেন। দোকানের যেকোনো ড্রপে সারে না। কোন জীবাণু, বিড়ালের ওজন ও শরীরের অবস্থা — ডোজ সেই অনুযায়ী।
অ্যালার্জিও কানে আসে। খাবার বা ধুলো-পরাগের অ্যালার্জিতে কান চুলকায়, ভিতরের চামড়া গোলাপি, ময়লা বেশি হয়। এটা এক দিনে সারে না। কী থেকে হচ্ছে, সেটা ভেট ধাপে ধাপে বের করেন। ত্বক মিলিয়ে দেখুন: ত্বকের রোগ যাচাই।
বাইরের জিনিস আটকে যেতে পারে — ঘাসের বিচি, গাছের টুকরো, ছোট ময়লা। বিড়াল জোরে মাথা নাড়ায়, কান নিচু করে রাখে। নিজে টেনে বের করবেন না। ভেট দেখে নিরাপদে সরান।
🔹 কখন পরিষ্কার নিরাপদ — কী লাগবে
শুধু সেই দ্রবণ ব্যবহার করুন যা বিড়ালের কানের জন্য বানানো। ভেট বা পোষা প্রাণীর দোকান থেকে নিন। পানি, ভিনেগার, স্পিরিট, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, নারিকেল তেল, অলিভ অয়েল, সরিষার তেল, বা মানুষের কানের ড্রপ দেবেন না। এগুলো জ্বালা করে, চামড়া শুকায়, সংক্রমণ বাড়াতে পারে। কোন বোতল এই বিড়ালের জন্য ঠিক, ভেট বলে দেবেন।
তুলা বা গজ রাখুন। কটন বাড নালির জন্য নিরাপদ নয়। সরু বলে ময়লা ভিতরে ঠেলে, পর্দা ফুটো করতে পারে। বিড়াল ছটফট করলে গায়ে জড়ানোর জন্য একটা তোয়ালে, আর শান্ত থাকলে দেওয়ার জন্য ট্রিট রাখুন।
🔹 ধাপে ধাপে কান পরিষ্কার
শান্ত ঘর, এমন সময় যখন বিড়াল ঢিলেঢালা। ভয় পেলে আলতো করে তোয়ালেতে জড়ান, শুধু মাথা বের থাকবে। অন্য কেউ ধরে রাখলে সুবিধা। জোর করে চেপে ধরবেন না।
- এক হাতে কানের পাতা আলতো কিন্তু শক্ত করে ধরুন।
- অন্য হাতে নালিতে ক্লিনার ঢালুন। নালি ভরে যাওয়ার মতো — সাধারণত কয়েক ফোঁটা বা ছোট ধারা। বোতলের নিয়ম পড়ুন। বোতলের মুখ কানে ঠেকাবেন না।
- পাতা ছেড়ে কানের গোড়া ২০–৩০ সেকেন্ড মালিশ করুন। চপচপ শব্দ শোনা উচিত। এতে ময়লা আলগা হয়।
- মাথা নাড়াতে দিন। এটা স্বাভাবিক। ময়লা বাইরে আসে।
- তুলা বা গজ দিয়ে পাতার ভিতর ও নালির মুখ বাইরের দিকে মুছুন। প্রতি বার নতুন তুলা। নালির ভিতরে তুলা ঢোকাবেন না।
- তুলা পরিষ্কার না আসা পর্যন্ত মুছুন। তিন-চার বার লাগতে পারে।
- ট্রিট দিন, আস্তে প্রশংসা করুন।
এক কান ময়লা দেখলেও দুই কান পরিষ্কার করুন। মাঝপথে কষ্ট বা ভয় বেড়ে গেলে থামুন, ভেটকে জানান।
🔹 এখনই যা করতে পারেন
হালকা ময়লা, অন্য লক্ষণ নেই — ঘরে পরিষ্কার করা যায়। বিড়ালের কানের ক্লিনার, তুলা বা গজ, তোয়ালে। কটন বাড, স্পিরিট, পারঅক্সাইড, ভিনেগার, তেল নয়।
তোয়ালেতে জড়ানো শাস্তি নয়, সুরক্ষা। আস্তে কথা বলুন। ট্রিট কাছে রাখুন। অন্য পোষা প্রাণী ঘরে থাকবে না।
পাতা ধরে নালি দৃশ্যমান ভরা পর্যন্ত ক্লিনার দিন। গোড়া ২০–৩০ সেকেন্ড মালিশ। নরম চপচপ শব্দ। মাথা নাড়াতে দিন। পাতা ও যেটুকু নালি চোখে দেখা যায়, তুলায় মুছুন। কিছু ভিতরে ঠেলবেন না। তুলা পরিষ্কার না আসা পর্যন্ত।
এক কান শেষ করে অন্য কান। বিড়াল অস্থির হলে থামুন। ভয় পেলে আপনাকে বা নিজেকে আঘাত করতে পারে। পরে আবার চেষ্টা করা যায়। ভয় খুব বেশি হলে ক্লিনিকে করাই নিরাপদ।
🔹 যা কখনো করবেন না
- নালির ভিতরে কটন বাড ঢোকানো। নালি L-এর মতো বাঁকা। বাড ময়লা ও সংক্রমণ আরও গভীরে ঠেলে, কানের পর্দা ফাটাতে পারে।
- বিড়ালের জন্য লেবেল নেই এমন কিছু দেওয়া।
- যে কান ব্যথা, ফোলা, লাল বা পুঁজযুক্ত, সেটা পরিষ্কার করা।
- মাথা হেলানো বা একনাগাড়ে আঁচড়ানো অবস্থায় পরিষ্কার করা। এগুলো সংক্রমণ, আটকে যাওয়া জিনিস, বা কানের ভিতরের মাংসের গোটা (পলিপ) হতে পারে। পরিষ্কারে সারে না।
- ভেট না বলে কোনো ওষুধ, ফার্মেসির ড্রপসহ। ভুল ওষুধে বধিরতা বা তীব্র জ্বালা হতে পারে। ওষুধ ও ডোজ কারণ, ওজন ও শরীর দেখে ভেট লিখবেন।
🔹 পরিষ্কারের পর কখন ফোন করবেন
দুই দিন খেয়াল রাখুন। অল্প ময়লা আবার দেখা স্বাভাবিক। এগুলো হলে ফোন করুন:
- কান লাল বা ফোলা
- আগের চেয়ে বেশি আঁচড়ানো বা মাথা নাড়ানো
- রক্ত বা পুঁজ
- দুর্গন্ধ
মানে কান আগে থেকেই অসুস্থ ছিল, অথবা পরিষ্কারে সারেনি। ভেট দেখে সঠিক চিকিৎসা দেবেন।
🔹 ফোনের আগে কী লিখে রাখবেন
- কখন থেকে শুরু
- ঘণ্টায় কতবার মাথা নাড়ায় বা কান আঁচড়ায়
- ময়লার রং ও গন্ধ। স্বাভাবিক ময়লা হালকা বাদামি। গাঢ় বাদামি বা কালো — মাইট হতে পারে। হলুদ-সবুজ — প্রায়ই ব্যাকটেরিয়া। মিষ্টি বা পচা গন্ধ সতর্কতা
- এক কান না দুই কান
- কান ছুঁলে চমকায় কিনা
- পাতা মোটা বা গরম কিনা
- কাছের সময়ে গোসল, সাঁতার, নতুন পোষা প্রাণী
হলে ভিডিও তুলুন। কান পাশ থেকে ও পেছন থেকে দেখান। ছবি ও ভিডিও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠালে বোঝা যায় ক্লিনিকে আসা দরকার কিনা।
🔹 হোয়াটসঅ্যাপে কী বোঝা যায়, কী যায় না
শান্ত বিড়াল, হালকা ময়লা — সেটা ঘরের কাজ। ব্যথা, ফোলা, পুঁজ, দুর্গন্ধ, মাথা হেলানো বা একনাগাড়ে আঁচড়ালে সামনাসামনি দেখা লাগে। পর্দা ফাটা, ভিতরে কিছু আটকে থাকা, বা গভীর সংক্রমণ হতে পারে। দূর থেকে নালির ভিতর দেখা যায় না, ময়লা পরীক্ষা হয় না, পর্দা আস্ত আছে কিনা বোঝা যায় না। ফাটা পর্দায় ভুল দ্রবণ দিলে শ্রবণ স্থায়ীভাবে যেতে পারে। এই লক্ষণে কান পরিষ্কার করবেন না। সেই দিনই ক্লিনিকে আসুন।
হোয়াটসঅ্যাপ কাজে লাগে অন্য জায়গায়। মাঝে মাঝে অল্প ময়লা, পরিষ্কার দরকার কিনা বুঝতে পারছেন না। আগে থেকে জানা কানের অসুখে ওষুধ চলছে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন। লক্ষণ দেখে ক্লিনিক দরকার কিনা ঠিক করতে। ভিডিও দেখে পরের ধাপ বলা যায়। কান হাতে দেখা, জ্বর মাপা, অটোস্কোপ, মাইক্রোস্কোপ — এগুলো ক্লিনিকে।
🔹 ক্লিনিকে সাধারণত কী হয়
কখন থেকে, কতবার আঁচড়ায়, ঘরে কী করেছেন — এগুলো জিজ্ঞেস করা হয়। দুই কান অটোস্কোপে দেখা হয়, যাতে নালি ও পর্দা দেখা যায়। ময়লা তুলায় নিয়ে মাইক্রোস্কোপে দেখা হয়। এতে ইস্ট, ব্যাকটেরিয়া নাকি মাইট — সেটা আলাদা হয়।
| যা পাওয়া যায় | সাধারণ পরের ধাপ |
|---|---|
| হালকা ময়লা, লাল নেই, ব্যথা নেই | ভেটের বলা দ্রবণে ঘরে পরিষ্কার |
| লাল, ফোলা বা ব্যথা | ক্লিনিকে পরিষ্কার ও ওষুধ |
| গাঢ় গুঁড়ো ময়লা | মাইক্রোস্কোপে মাইট দেখা |
| হলুদ বা সবুজ পুঁজ | নমুনা দেখে কোন জীবাণু |
| মাথা হেলানো বা টাল | গভীর পরীক্ষা, দরকার হলে ইমেজিং |
সাধারণ সংক্রমণে কানের ড্রপ, এক থেকে দুই সপ্তাহ পর আবার দেখানো। পুরনো বা ভারী ক্ষেত্রে ঘুমের ওষুধ দিয়ে কান ধোয়া, মুখের ওষুধ, বা ইমেজিং লাগতে পারে। প্রথম কনসালটেশন ৳৩০০। পরীক্ষা ও ওষুধের খরচ শুরুর আগে বলা হয়। খরচ ক্যালকুলেটর।
🔹 পরিষ্কারের পর ও আগাম যত্ন
পরিষ্কারের পর এক ঘণ্টা ঘরে, চুপচাপ রাখুন। কয়েক দিন প্রতিদিন কান দেখুন। লাল, ফোলা বা পুঁজ হলে ফোন করুন। ভেট না বলা পর্যন্ত আবার পরিষ্কার করবেন না। বারবার পরিষ্কারে কানের তেলের আস্তরণ উঠে যায়, সংক্রমণ সহজ হয়।
যাদের কান বারবার খারাপ হয়, তাদের ঘন ঘন ধোয়ার চেয়ে নিয়মিত দেখা দরকার। সপ্তাহে একবার কান দেখুন। ময়লা চোখে পড়লেই পরিষ্কার করুন। অ্যালার্জি থাকলে আসল চিকিৎসা অ্যালার্জি সামলানো।
🔹 যে ভুল বেশি হয়
| ভুল | বদলে যা করবেন |
|---|---|
| নালির গভীরে কটন বাড | শুধু যেটুকু দেখা যায়, তুলা বা গজ দিয়ে পাতা মুছুন |
| প্রতি সপ্তাহে কান ধোয়া | মাসে একবার দেখুন, ময়লা দেখলেই পরিষ্কার |
| স্পিরিট, পারঅক্সাইড, ভিনেগার, তেল | বিড়ালের কানের ক্লিনার, ভেট বা পোষা প্রাণীর দোকান থেকে |
| লাল, ব্যথা বা দুর্গন্ধ থাকলেও ধোয়া | থামুন, আগে ভেট দেখান |
সুস্থ কানে প্রতি সপ্তাহে পরিষ্কার লাগে না। বেশি পরিষ্কারে চুলকানি ও সংক্রমণ বাড়ে। অনেক বিড়ালের কান কখনো ধোয়া লাগে না। মাথা নাড়ানো, কান আঁচড়ানো, এক কান নিচু — এগুলোকে “শুধু ময়লা” ভাববেন না। পরিষ্কার করলে সারে না, খারাপ হতে পারে।
🔹 কানের সমস্যা কমাতে
সব আটকানো যায় না। ঝুঁকি কমানো যায়।
- মাসে একবার কান দেখুন — লালচে ভাব, গাঢ় ময়লা, দুর্গন্ধ। তাড়াতাড়ি ধরলে চিকিৎসা সহজ
- বিছানার চাদর নিয়মিত ধুন, কার্পেট ঝাড়ু দিন। মাইট এক প্রাণী থেকে অন্যটাতে যায়। একজনের মাইট হলে ঘরের সব পোষা প্রাণীকে চিকিৎসা করান
- গোসল বা পানি লাগলে বাইরের কান নরম তোয়ালেতে মুছুন। নালিতে আটকে থাকা পানিতে ব্যাকটেরিয়া ও ইস্ট বাড়ে
- অ্যালার্জি থাকলে সেটা সামলান। ফোলা কানে সংক্রমণ বসে
🔹 সারতে কতদিন, পরে কী
শুধু ময়লা, সংক্রমণ নেই — একবার পরিষ্কারেই প্রায়ই হয়। এক-দুই দিনে কান স্বাভাবিক দেখায়।
হালকা সংক্রমণে ভেট ড্রপ বা ওষুধ দেন। বেশিরভাগ সাত থেকে চোদ্দ দিনে কমে। কান ভালো দেখালেও ওষুধের কোর্স শেষ করুন। আগে থামালে ফিরে আসে।
বারবার হলে সময় বেশি লাগে। বিশেষ খাবার, অ্যালার্জির ওষুধ, বা নিয়মিত কান পরিষ্কার লাগতে পারে। কারও কয়েক সপ্তাহ পর পর পরিষ্কার দরকার। সময়সূচি এই বিড়ালের জন্য ভেট দেবেন।
চিকিৎসার সময় ড্রপের পর মাথা নাড়ানো স্বাভাবিক। ওষুধ কাজ করলে কিছু ময়লা বেরোতে পারে। কান আরও লাল, ফোলা বা ব্যথা হলে সাথে সাথে ফোন করুন।
ফলো-আপ দরকার। সংক্রমণ গেছে কিনা আবার দেখে নিশ্চিত হতে হয়।
🔹 প্রশ্নোত্তর
কত ঘন ঘন কান পরিষ্কার করব?
সুস্থ বিড়ালের কান মাসে একবার দেখুন। ময়লা চোখে পড়লেই পরিষ্কার করুন। কারও কখনো লাগে না। স্কটিশ ফোল্ডের মতো ভাঁজ করা কানে পানি ও ময়লা আটকে, তাদের বেশি নজর লাগে। আগে সংক্রমণ হয়েছে এমন বিড়ালের নিয়ম আলাদা। সন্দেহ হলে না ধুয়ে ভেটকে জিজ্ঞেস করুন। বেশি পরিষ্কারে জ্বালা হয়।
কান ছুঁতেই রাগ করে। কী করব?
ধীরে শুরু করুন। আগে বোতল ও তুলা শোঁকাতে দিন। শুরুর আগে একটা ট্রিট, শেষে আরেকটা। ছটফট করলে তোয়ালেতে জড়ান, শুধু মাথা বের। শান্ত ঘর, অন্য পোষা প্রাণী নয়। ফোঁসফোঁস, গর্জন বা কামড়ের চেষ্টা হলে থামুন, পরে চেষ্টা করুন। জোর করবেন না। একদম সহ্য না হলে ক্লিনিকের ভিজিটে করানো যায়।
বেবি ওয়াইপ বা কটন বাড দিয়ে হবে?
না। বেবি ওয়াইপে সুগন্ধ ও রাসায়নিক থাকে, কান জ্বালা করে। কটন বাড ময়লা গভীরে ঠেলে, পর্দা কাটতে পারে। বিড়ালের কানের ক্লিনারের সাথে তুলা বা গজ। বাইরের আলগা ময়লায় শুকনো তুলাই যথেষ্ট। তার চেয়ে গভীরে ভেট দেখবেন।
সংক্রমণ দেখতে কেমন?
ভিতর লাল ও ফোলা। গাঢ় বাদামি, হলুদ বা কালো ময়লা। ইস্ট বা টক খাবারের মতো গন্ধ। মাথা নাড়ানো, আঁচড়ানো, মাথা হেলানো। ছুঁলে ব্যথা। এই লক্ষণে কান পরিষ্কার করবেন না। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন। সংক্রমিত কান ধুলে জীবাণু গভীরে যায়, চিকিৎসা দেরি হয়।
মাইট বুঝব কী করে?
তীব্র চুলকানি, আর কফি গুঁড়োর মতো কালচে শুকনো ময়লা। বারবার আঁচড়ানো, মাথা নাড়ানো। খালি চোখে মাইট দেখা যায় না। ভেট ময়লা মাইক্রোস্কোপে দেখে নিশ্চিত করেন। ওষুধ প্রেসক্রিপশনের। দোকানের ড্রপ নিজে দেবেন না।
অলিভ অয়েল বা নারিকেল তেলে পরিষ্কার হবে?
না। তেল কান পরিষ্কার করে না। চিটচিটে আস্তরণে আরও ময়লা আটকে। ব্যাকটেরিয়া ও ইস্ট বাড়ার জায়গা হয়। মাইটের জন্য তেলের ঘরোয়া পরামর্শ প্রমাণিত নয়, খারাপ করতে পারে। শুধু বিড়ালের জন্য বানানো ক্লিনার। মাইটের সন্দেহ হলে পরীক্ষা ও চিকিৎসা ভেটের কাছে।
🏥 কেন ডা. সাকিব পেট কেয়ার-এ দেখাবেন?
ময়লার রং দেখেই তেল বা ফার্মেসির ড্রপ নয়। মাইট, ইস্ট, ব্যাকটেরিয়া নাকি শুধু ময়লা — সেটা আগে।
✔ পর্দা দেখে তারপর পরিষ্কার DVM ডিগ্রিধারী ডা. সাদমান সাকিব (বিভিসি রেজি. নং ৮৭০৪) নিজে দেখেন। পর্দা ফাটা থাকলে সাধারণ ক্লিনার দেওয়া হয় না।
✔ কারণ দেখে ওষুধ গাঢ় ময়লা মানেই মাইট নয়। কানের ভিতর দেখে, দরকার হলে নমুনা পরীক্ষা করে ড্রপ ঠিক করা হয়।
✔ মানুষের ড্রপ ও তেল নয় কোন ক্লিনার, কত দিন, কান ছোঁয়া যাবে কিনা — লেখা থাকে।
✔ স্বচ্ছ মূল্য প্রথম কনসালটেশন ৳৩০০, ৩ দিনের মধ্যে পুনরায় ভিজিট ফ্রি। পরীক্ষা ও ওষুধের খরচ আগে বলা হয়।
✔ সানারপারে, সকাল ৯টা – রাত ৯টা নিমাই কাসারি বাজার, সিদ্ধিরগঞ্জ। হোয়াটসঅ্যাপে সাধারণত ১৫ মিনিটের মধ্যে উত্তর।
📞 অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন
কত দিন, এক কান না দুই, ময়লার রং, গন্ধ, মাথা নাড়ানো বা হেলানো আছে কিনা — বলে ফোন করুন। ভিডিও থাকলে আনুন।
ডা. সাকিব পেট কেয়ার
- 📱 কল করুন: ০১৩০২৯৫৯৯৮৫
- 📍 ঠিকানা: নিমাই কাসারি বাজার, সানারপার, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা
- 🕐 সময়: সপ্তাহের সব দিন, সকাল ৯টা – রাত ৯টা
অথবা সরাসরি ক্লিনিকে চলে আসুন — Google Maps-এ দিকনির্দেশনা।
লাল কান, পুঁজ বা মাথা হেলানো “কালকে দেখি” নয়। কটন বাড ও তেল কানের পর্দা নষ্ট করতে পারে। কল করুন: ০১৩০২৯৫৯৯৮৫।
